ইরানে আজই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ‘আগামীকালই’ ইরানে হামলা চালাতে পারে। তবে তেহরানের সঙ্গে ‘বড় ও চমৎকার’ একটি চুক্তির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ইরান যাতে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিই তার মূল লক্ষ্য বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন ট্রাম্প—বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন খবরের মধ্যেই তার এই মন্তব্য এলো। তবে সামরিক পদক্ষেপ নাকি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা—কোন পথে এগোবে যুক্তরাষ্ট্র, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি তিনি।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে কতটা এগিয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হামলা করার কথা ভাবছি, আর সেটা হয়তো আগামীকালই (রোববার)।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা কি সত্যিই মনে করেন, আমি আপনাদের বলে দেব যে আমি হামলা চালাতে যাচ্ছি কি না?’
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে ইরান এখনো নতুন করে সামরিক হামলা এড়াতে পারে। তবে চুক্তি হলেও ইরান সেটি মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা চুক্তিটি মেনে চলবে কি না।’
ইরান যাতে ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিই তার মূল লক্ষ্য বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার ভাষ্য, এর আগে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযান চালিয়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদি ফল নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট হতো না।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে এটি স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করতে হবে। আমি এটা করছি শুধু এই কারণেই।’
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার দাবি, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখন এই প্রণালি দিয়ে বেশি তেল পরিবহন করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান দেননি তিনি।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানাননি ট্রাম্প। বরং সামরিক অভিযান ও আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা—দুটিকেই সম্ভাব্য পথ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো আমাকে এর সমাপ্তি টানতে হবে, অথবা তারা হয়তো একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে। তবে আমি নিশ্চিত নই। যেভাবেই হোক, জয় আমাদেরই।’
প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় যুদ্ধবিরতি এবং শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে সমঝোতা হলেও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি।
